আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ২০২৫ সালেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রাখবে বলে ধারণা করছে বিশ্বের প্রধান ব্যাংকগুলো। ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে এ সময় ব্যবসায়ীরা খাতটিতে বিনিয়োগ বাড়াবে বলে মনে করছেন তারা। এটি ছাড়াও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতির প্রেক্ষাপটে স্বল্পমেয়াদে স্বর্ণের দামের পূর্বাভাস সংশোধন করেছে বৈশ্বিক আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান সিটি ব্যাংক। তিন মাসের মধ্যে মূল্যবান ধাতুটির দাম আউন্সপ্রতি ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার ডলারে পৌঁছতে পারে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। খবর রয়টার্স।
পূর্বাভাসে সিটি ব্যাংক আরো জানায়, ৬-১২ মাসের মধ্যে স্বর্ণের দাম পৌঁছতে পারে আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ডলারে, যা আগের দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় অপরিবর্তিত। অন্যদিকে ২০২৫ সালে স্বর্ণের গড় দাম থাকতে পারে আউন্সপ্রতি ২ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ৯০০ ডলারের মধ্যে।
এক নোটে সিটি ব্যাংক জানায়, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে বাণিজ্যযুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা রিজার্ভ ও ডি-ডলারাইজেশন প্রবণতাকে শক্তিশালী করছে। এতে উদীয়মান বাজারে সরকারি খাতে স্বর্ণের চাহিদাকে সমর্থন করছে।
উল্লেখ্য, ডি-ডলারাইজেশন ট্রেন্ড হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কোনো দেশ বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, রিজার্ভ ও লেনদেনে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দেয়।
সিটি ব্যাংকের নোট অনুযায়ী, ‘সামনের দিনগুলোয় স্বর্ণের দাম অব্যাহত বাড়তে পারে। ভূরাজনৈতিকসহ অন্যান্য ঝুঁকিতে নিরাপদ বিনিয়োগের আশ্রয় খাত হিসেবে মূল্যবান ধাতুটির চাহিদা ক্রমে বাড়তে থাকবে, এদিকে ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল (ডব্লিউজিসি) সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, ২০২৪ সালে বৈশ্বিক স্বর্ণের চাহিদা ১ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ৪ হাজার ৯৭৪ দশমিক ৫ টনে পৌঁছেছে। এ সময় চাহিদা বাড়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে বাড়তি বিনিয়োগ ও চতুর্থ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ঊর্ধ্বমুখী ক্রয়।
এর আগে অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান ম্যাককুয়ারি ডিসেম্বরে জানায়, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে স্বর্ণের দাম বাড়ার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। তবে পরবর্তী সময়ের পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক, বাণিজ্য ও অভিবাসন নীতির সময় এবং প্রভাবের ওপর। এছাড়া এতে শুল্ক আরোপের প্রতিক্রিয়া উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে।